সম্পাদকীয়

  • লেখক: টিম কল্পবিশ্ব
  • শিল্পী: টিম কল্পবিশ্ব

“You treat ideas like cats: you make them follow you. If you try to approach a cat and pick it up, hell, it won’t let you do it. You’ve got to say, ‘Well, to hell with you.’ And the cat says, ‘Wait a minute. He’s not behaving the way most humans do.’ Then the cat follows you out of curiosity: ‘Well, what’s wrong with you that you don’t love me?’”

– Ray Bradbury

রে ব্র্যাডবেরি বেড়ালদের ভালোবাসতেন। সে ভালোবাসার টান এতটাই যে কোনো এক সময়ে তাঁর ঘরে ঘরকন্না পাতিয়ে বসেছিল বাইশখানি মার্জার। যে দিন মারা গেলেন, সেদিনও তাঁর বেসমেন্টে দুটি বেড়ালের দেখা মিলল। বেড়ালদের নিয়ে রে‘র অনেক বক্তব্য ছিল। সে সবের বেশ কিছু উল্লিখিত আছে তাঁর বিপুল সাহিত্যকর্মের আনাচেকানাচে। ‘মেটাফোর’- রূপক- সে শব্দটাকেও তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন বেড়ালদের প্রকৃতি দিয়ে। আশ্চর্য ব্যাপার, তাই না? রে ব্র্যাডবেরি মানুষটাই ছিলেন অবাক করার মতন। চিরকিশোর মানুষটি কোনোদিন আসলে বড়ো হয়ে ওঠেননি। লেখালেখিকে পেশা বানিয়ে ফেলার পরেও একটা ‘অফিস’ ভাড়া করার সাধ্য ছিল না বলে ওই বেসমেন্টেই একটা টাইপরাইটার নিয়ে দিনরাত খুটখুট শব্দে লিখে চলতেন। তাদের কোনটা যদি ‘সায়েন্স ফিকশন’ ঘরানার হয় তো কোনওটা ফ্যান্টাসিধর্মী। ভূতের গল্প কিংবা গোয়েন্দা গল্পও বাদ যায়নি। কাহিনির বুনোটে রূপকের চমক, শব্দের ছায়াময়তা, কল্পনার বর্ণিল ছটা- ব্র্যাডবেরিকে মানুষ আপন করে নিতে দেরি করেনি। তবে শুধু রংবেরঙের আখ্যান নয়, তাঁর কলম জন্ম দিয়েছে বিদ্রোহের ভাষ্যও। সে বিদ্রোহ কলমকে বল্গা পরানোর বিরুদ্ধে, সে রোষ গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষের চিন্তা ভাবনাকে দুমড়ে মুচড়ে মূক করে দেবার বিরুদ্ধে। তিনি সব্বাইকে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন, নব্য লেখকদের বলতেন এক নাগাড়ে ছোটগল্প লিখে হাত পাকাতে। ঘরের মধ্যে সাজিয়ে রাখতেন রং, তুলি। জমাতেন খেলনা। নিজের মেয়েদের সঙ্গে খেলতেন প্রাণ ভরে। লেখার কথা ভুলে যেতেন তিনি। ভালো বাবা হওয়াটা তাঁর কাছে বেশি জরুরি ছিল কিনা। এমন মানুষকে পাঠক তাই ভালো না বেসে পারেনি। ফারেনহাইট ৪৫১, দ্য অক্টোবর কান্ট্রি, দ্য গোল্ডেন এপলস অফ দ্য সান, ড্যান্ডেলিয়ন ওয়াইন, দ্য ইলাস্ট্রেটেড ম্যান, দ্য মার্সিয়ান ক্রনিকলস, ডেথ ইজ এ লোনলি বিজনেস- একের পর এক ক্লাসিক আখ্যান। এমন ‘জিনিয়াস’ কল্পবিজ্ঞান পুরোধাকে তাঁরই জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিতে প্রকাশ পেল কল্পবিশ্বের এবারের বিশেষ ব্র্যাডবেরি সংখ্যা। আরেকটি খবর পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া জরুরি। বাংলায় তাঁর তিনটি সুবিখ্যাত বই- ফারেনহাইট ৪৫১, দ্য ইলাস্ট্রেটেড ম্যান, দ্য মার্সিয়ান ক্রনিকলস- অনূদিত হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে খুব শিগগিরই ব্র্যাডবেরি সোসাইটির অনুমোদন সহ। তাঁর অনবদ্য লেখনীকে আমাদের মাতৃভাষায় উপস্থাপিত করছেন সমকালীন বঙ্গ সাহিত্যের তিন প্রখ্যাত সাহিত্যিক- দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, সুমিত বর্ধন এবং যশোধরা রায়চৌধুরী।

এ লেখার সূচনা রে ব্র্যাডবেরির বক্তব্য দিয়ে। সমাপ্তিও তাঁরই উবাচ ধার নিয়ে।

“If we listened to our intellect we’d never have a love affair. We’d never have a friendship. We’d never go in business because we’d be cynical: “It’s gonna go wrong.” Or “She’s going to hurt me.” Or, “I’ve had a couple of bad love affairs, so therefore…” Well, that’s nonsense. You’re going to miss life. You’ve got to jump off the cliff all the time and build your wings on the way down.”

– Ray Bradbury

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। শুভমস্তু!

Tags: সপ্তম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা, সম্পাদকীয়

One thought on “সম্পাদকীয়

  • August 25, 2022 at 11:25 am
    Permalink

    লেখার মাধ্যমে সম্মোহন করার ক্ষমতা সব লেখকের থাকে না। ব্রাডবেরির ছিল।

    Reply

Leave a Reply





Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!