সুশ্রুত

  • লেখক: তৃণময় দাস
  • শিল্পী: টিম কল্পবিশ্ব

ঘুম ভাঙতেই সুশ্রুতবাবুর মনে হল পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

উনি অনেকক্ষণ বিছানায় পড়ে রইলেন। সব কিছু যখন ধুয়েমুছে গিয়েছে, তখন নিশ্চয় বাজারহাট, অফিস বাড়ি, কোনওকিছুই আর নেই। ট্রাফিকের ঝামেলা নেই, লোকজনের গালাগাল নেই, ঘেমো ভিড়ে পকেটমারের ভয় নেই, বাজারে সবজির ইলেকট্রিক শক মারা দাম নেই, বসের খিটখিটে মেজাজ নেই, কিচ্ছু নেই।

শুধু শহরের ধ্বংসাবশেষের উপর কার্পেটের মতো ঘাস গজিয়ে রয়েছে; মৃদুমধুর বাতাসে অল্প অল্প মাথা নাড়াচ্ছে তারা। তাদের দেখে আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘসকল আনন্দে হুটোপুটি খাচ্ছে।

পার্কস্ট্রিটের রাস্তায় একপাল হরিণ চরতে বেড়িয়েছে। ওদের মসৃণ গায়ে রোদ পড়ছে, চকচক করছে একটু। একজনের মাথায় আবার শিঙের ডালপালা, তাতে ফুল ফুটে রয়েছে। সে তাকিয়ে রয়েছে সুশ্রুতবাবুর দিকে।

হঠাৎ ট্রেনের আওয়াজ। সবুজ পার্কস্ট্রিট মিলিয়ে গেল। হরিণ হারিয়ে গেল। কোথায় কি? সুশ্রুতবাবু নিজের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মাথার উপর পুরোনো সিলিং ফ্যানটা ঘটর ঘটর করে ঘুরছে। খোলা জানালা দিয়ে ফ্ল্যাটের নিচে বসা বাজার থেকে লোকজনের চেঁচামেচি ভেসে আসছে, সঙ্গে ট্রেনের আওয়াজ।

সুশ্রুতবাবু দীর্ঘনিশ্বাস ফেললেন।

“এই, তুমি উঠবে না?” মাধুরীর তিক্ত গলা। দরজার মুখে দাঁড়িয়ে আছে সে। হাতে একটা দুধভেজা হাতা, সেটা থেকে টপটপ করে দুধের ফোঁটা মেঝেতে পড়ছে। “আটটা বাজতে চলল। সবজিপাতি কিছুই নেই বাড়িতে, আর বাবুমশাই ঘোঁৎঘোঁৎ করে ঘুমাচ্ছেন।”

আরও কী সব বলল মাধুরী। গালিগালাজ হয়তো। সুশ্রুতবাবু শুয়ে থেকেই স্ত্রীর দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। মাধুরীর শরীরে বয়সের ছাপ এখনও পড়েনি। সুঠাম চেহারা। খালি মাথার চুল অল্প পেকেছে।

ওদের মধ্যে বয়সের ফারাক অনেকটাই। যখন প্রথম দেখা হয়েছিল, তখন তিনি ভেবেছিলেন মাধুরী বোধহয় নাবালিকা, স্কুলের ছাত্রী হবে। মাধুরী মুখঝামটা দিয়ে বলেছিল ও থার্ড ইয়ারে পড়ে, যাদবপুরের বিপ্লবী ছাত্রী। 

সুশ্রুতবাবু কিছুতেই এই মহিলার সঙ্গে সেই পনেরো বছর আগের চেনা মেয়েটাকে মেলাতে পারলেন না। তখন একদিন মাধুরী টিশার্ট আর জিন্সের প্যান্ট পরে এসেছিল। কফি হাউসে বসে ফসস করে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ইনফিউসন অর্ডার দিয়েছিল। তারপর দিনের শেষে সুশ্রুতবাবুর ভিতু হাতদুটো চেপে ধরে বলেছিল, “বিয়ে করবে আমাকে?” 

এখন মাধুরী চোখ পাকিয়ে দরজা থেকে সরে গেল। এত বছরের সহবাসে দুইজনে যেন ঘনিষ্ঠ হতে পারেনি, বরং দিনকে দিন অপরিচিত হয়ে গিয়েছে।

সুশ্রুতবাবু এইবার উঠে বসলেন। ওঁর স্পষ্ট মনে আছে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পিঠে একটা দামড়া ব্যাগ আর হাতে তির-ধনুক নিয়ে উনি শিকারে বেরিয়েছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওটা স্বপ্ন ছিল। ফ্যানের আওয়াজেই টের পাচ্ছেন সব একই আছে। মানবসভ্যতা পুরো দমে এগোচ্ছে, এগোতেই থাকছে। 

আর তার মাঝে তিনি সম্পূর্ণ একা।

সুশ্রুতবাবু মুখ ধুয়ে কোনওরকমে বাজার করতে নামলেম। আলুর দাম পঞ্চাশ টাকা কিলো। সবজিওয়ালা লাল দাঁত বার করে বলল আলুর সাপ্লাই নাকি সব বন্ধ। কীসের একটা হরতাল হচ্ছে, মিডিয়ায় মুখ দেখাতে নেতারা খুবই ব্যস্ত।

পাশ থেকে একজন পৌঢ় ক্রেতা ধমক দিয়ে বললেন, “থামো তোমাদের সব মিথ্যে কথা। এগুলো হল দাম বাড়ানোর অজুহাত। হারামজাদা…”

ভদ্রলোক হঠাৎ অভদ্র গাল দিতে শুরু করেছেন শুনে সুশ্রুতবাবু সেখান থেকে সরে পড়লেন।

কিছু সবজি আর অল্প পনির কিনে, পকেট হালকা আর বাজারের ব্যাগ ভারী করে, তিনি বাড়ি ফিরলেন। মাধুরী ঝাঁঝিয়ে বললো “নুন আনোনি কেন?”

সুশ্রুতবাবু এটা বললেন না যে মাধুরী তো আগে নুন আনতে বলেনি। তিনি আবার ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। আজ কিছুতেই ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছে না। সবকিছু কেমন অদ্ভুত লাগছে, যেন উনি এখনও স্বপ্ন দেখছেন। এইসব ভিড় রাস্তা আর গাড়ির হুংকার সত্যি হতে পারে না। পৃথিবী থেকে তো সবকিছু মুছে গিয়েছে। প্রকৃতি আবার ফিরে এসেছে, শেকড় দিয়ে ফাটিয়ে দিয়েছে পাকা রাস্তা। একটা দুধসাদা বাঘ ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে ঘাসের বনে, হরিণগুলোকে দেখে ঠোঁট চাটছে। কই? সেখানে তো এই বাজার বসেনি। দূরদূরান্তে একটা মানুষও দেখা যাচ্ছে না। এইসব লোকারণ্য একটা বড় মিথ্যে, সুশ্রুতবাবু সেটা জানেন।

যাহ! কী সব আবোলতাবোল ভাবতে বসেছেন উনি! বাজার শেষ করে, চান করে, খেয়ে দেয়ে, অফিস যেতে হবে তো ওঁকে। আজ আপার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইম্পর্ট্যান্ট একটা মিটিং রয়েছে। দেরি করলে সুপারভাইজার বাঁশ দেবেন, ভয়ানক লম্বা বাঁশ। অফিস কোনওভাবেই মিস করতে পারবেন না, ওইরকম অভ্যেস তাঁর নেই।

উনি নুন কিনে বাড়ি ফিরলেন।

সুশ্রুতবাবু তড়িঘড়ি করে গায়ে একটু সাবান ঘষে এবং জল ঢেলে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলেন। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে আয়নার সামনে আসতেই চমকে উঠলেন। এ কী রকম চেহারা ওঁর?

গালদুটো ঝুলে গিয়েছে। চোখের তলায় কালি। মুখে দুইদিনের না-কামানো দাড়ি৷ ঠোঁট সরু। এটা কে?

মাথাটা বোঁ করে ঘুরে গেল। উনি কোনওরকমে বিছানায় ধপ করে বসলেন। আয়নায় এটা কে? সুশ্রুতবাবু তো এইরকম দেখতে নন।

ওঁর তো পুরু ঠোঁট, নীল চোখ, নাকে একটা কাটা দাগ আছে, মাথায় জটা দেওয়া চুল। আর ওনার দাড়িগোঁফ তো নেই, হবেও বা কী করে? উনি তো… চিন্তাধারাটা ওখানেই সুতোর মতো ছিঁড়ে গেল।

সুশ্রুতবাবু কপালের রগদুটো টিপে চোখ বুজে বসে রইলেন। শরীরে মধ্যে একটা অস্বস্তি ভাব আসছে। বারবার স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতা মিশে যাচ্ছে কেন? কিছু একটা হয়েছে ওঁর। সকাল থেকে সবকিছু ভাসাভাসা হয়ে গিয়েছে। নিজেকে ঘুড়ির মতো মনে হচ্ছে, গা ছেড়ে জাস্ট ভেসে যাচ্ছেন কোথাও। মাধুরীর সঙ্গে একবার ঠিক করে কথাও বলেননি, এমনকি কথা কাটাকাটিও করেননি।

একবার ভাবলেন আজ অফিস থেকে ছুটি নেবেন কিনা। এমনিও একগাদা ছুটি জমে আছে। নেওয়া হয়নি, কারণ আগের মতো মাধুরী আর উনি কোথাও ঘুরতেও যান না। তারপর ভাবলেন, না থাক। সুপারভাইজার ভায়া ছুটির কারণ জানার জন্য অনেক প্রশ্ন করবেন, জেরা করার মতোই। সেইসব সহ্য করতে পারবেন না সুশ্রুতবাবু। ওঁকে অফিস যেতেই হবে। তিনি একটা জম্বির মতো মন্থরগতিতে জামাকাপড় পরলেন। ঘড়িতে সাড়ে ন-টা বাজে। অল্প দেরি হবে অফিস ঢুকতে। তা হোক। একদিন সম্পূর্ণ মডেল এমপ্লয়ি না হয় নাই বা হলেন।

খেতে বসে সুশ্রুতবাবু আবার অল্প হকচকিয়ে গেলেন। কেন জানি ওঁর আগুনে ঝলসানো খরগোশের মাংসর কথা মনে পড়ছিল। তার বদলে থালাতে সাজানো খাবার দেখে অবাক লাগছিল৷ কিন্তু পরমুহূর্তেই নিজেকে মনেমনে ধমক দিলেন। স্বপ্নের কথা ভাবা ভালো, কিন্তু তা বলে এতক্ষণ সেটার মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত রাখাটা অসুস্থতার লক্ষ্মণ। উনি জোর করেই মনের সব অসঙ্গত চিন্তাগুলোকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করতে লাগলেন।

তবুও মুখে ভাত-ডাল পড়তেই কেমন বিস্বাদ ঠেকল। 

“একটু নুন দিও তো,” সুশ্রুতবাবু বললেন।

মাধুরী মোবাইলে ইউটিউব ভিডিয়ো দেখছিল। এখন ভ্রু কুঁচকে ওর স্বামীর দিকে তাকালো।

“কী?”

“নুন।”

“মিনমিন করে কী বলছ?

সুশ্রুতবাবু গলা খাঁকারি দিয়ে একটু জোর গলায় বললেন, “একটু নুন দাও।”

“নুন?”

“লবণ।”

“আহারে রবীন্দ্রনাথ, নুনের সমার্থক শব্দ বলতে এসেছেন। নুন যে খাবে, শরীরের অবস্থার দিকে খেয়াল আছে?”

“অল্প একটু দাও, ডালে নুন কম হয়েছে।”

“তাহলে সেটাই খাবে তুমি। কোলেস্টেরলের কথা ভুলে গেলে কবে থেকে?”

মাধুরী এইবার পিটপিট করে সুশ্রুতবাবুর দিকে তাকাল।

“তোমার কি হয়েছে বলো তো? সকাল থেকে মনে হচ্ছে টাল খেয়ে পড়ে আছো।”

সুশ্রুতবাবু এতক্ষণে অল্প বিরক্ত হলেন।

“কিছুই হয়নি, মাধুরী। অল্প টায়ার্ড।”

“তাহলে অফিস থেকে ছুটি নাও। খুব আহামরি কাজ তো তুমি করো না। একদিন না হয় অফিসের এসির হাওয়া না খেয়ে ঘরে বসে ফ্যানের হাওয়া খেলে।”

পনিরের একটা টুকরো চিবোতে চিবোতে সুশ্রুতবাবু বললেন, “তা হয় না। আজ একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং রয়েছে। না গেলে সুপারভাইজার কথা শোনাবে।”

মাধুরী মুখ বিকৃত করে বলল, “তা হলে যাও অফিসে। নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্যে কোনওদিন তো শিরদাঁড়া খাড়া করতেও শেখোনি। আজ অন্য কিছু একটা হবে সেই আশা করাটাই আমার ভুল হয়েছে।”

সুশ্রুতবাবু কিছু না বলে খেতে থাকলেন।

নীল রঙের বাস। পুরো ফাঁকা। একটা বিশাল মাঠের এককোণায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানেই সেটা চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকবে; চাকাগুলো আর নেই যে। জায়গাটা কিন্তু বেশ শান্ত। জোরে হাওয়া দিলে মাঠের ঘাসে ঢেউ ওঠে, শিরশির করে আওয়াজ হয়। প্রায়ই ঘাসের মাঝে বন্য ঘোড়ার পাল চরতে আসে। ওরা দাঁত দিয়ে ইয়া বড়বড় ঘাসগুলো টেনে টেনে খায়। মাঝে মাঝে ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে মিহি গলায় গান গায়। এই ঘোড়াদের চোখগুলো উজ্জ্বল আর বুদ্ধিমান। তারা ফাঁকা বাসটা এড়িয়েই চলে। 

সুশ্রুতবাবুও ওদের সঙ্গে কোনওরকম ঝামেলায় জড়াননি, তাই না?

বাসে ওঁর এই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে বলে মনে হয় না। কন্ডাকটর তো নয়ই। সে তিতকুটে মুখে সুশ্রুতবাবুর দিকে চেয়ে রয়েছে। বাসে বেশ ভিড় হয়েছে। তবুও উনি বসার জায়গা পেয়ে গিয়েছেন। এইবার টিকিট কাটার পালা। কন্ডাকটর হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সুশ্রুতবাবুর ঘোর কাটতে চাইছে না।

“দাদা, জলদি টাকাটা ছাড়ুন,” কন্ডাকটর বিরক্তি গলায় বললো। “বসে বসে ঢুললে হবে? বাসটা ঘুমানোর জায়গা নয়।”

সুশ্রুতবাবু থতমত খেয়ে পকেট হাতড়াতে লাগলেন। ওঁর সিট থেকে উনি দেখতে পাচ্ছেন অন্ততপক্ষে তিনজন সহযাত্রী ঘুমাচ্ছে। একজনের মাথাটা বাবলহেডের মতো নড়ছে, এপাশ ওপাশ ধপাশ। আরেকজনের মুখ থেকে লালা চুয়ে চুয়ে বুকপকেটের কলমের মাথায় পড়ছে, সেটাতে সকালের রোদ পড়ে চিকচিক করছে। শেষজন নাক ডাকছে, নাসারন্ধ্র ফুলে উঠছে, মুখটা হায়নার মতো খোলা। তাই কন্ডাকটরের কথাটা কেমন খাপছাড়া মনে হল। এত লোক ঘুমাচ্ছে তো ওঁর উপর সমস্ত রাগ ঝরে পড়ল কেন?

সুশ্রুতবাবু নীলচে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট এগিয়ে দিলেন কন্ডাকটরের দিকে, বললেন “কাঁকুড়গাছি নামব।”

কন্ডাকটরের আঙুলগুলোর মাঝে নোটগুলো ভাজ করা। টাকার ফুল। সুশ্রুতবাবুর মনে পড়ল শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে সূর্যমুখী গজানোর কথা। মাইলের পর মাইল শুধু হলুদ-সবুজের বাহার। তারা সকলে তাকিয়ে রয়েছে আকাশের দিকে, সূর্যের দিকে। তাদের ভয়ডর তেমন নেই, কারণ কোন ট্রেন এসে ওদের মাড়িয়ে চলে যাবে না। সেইসব যন্ত্র কারশেডে পড়ে আছে, জং ধরে গিয়েছে।

কন্ডাকটর সুশ্রুতবাবুর হাতে খুচরো পয়সা আর একটা আধছেঁড়া টিকিট গুঁজে সরে পড়েছে। সে অনেকটা সুর করে বলছে “টিকিট টিকিট”। লোকজন কন্ডাকটরের চোখে চোখ মেলাচ্ছে না, বাইরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বাসের ভাড়া দিতে সকলের অনীহা।

সুশ্রুতবাবু কেন ভাবলেন সূর্যমুখীর দৃশ্যটা একটা স্মৃতি, কিন্তু স্বপ্ন নয়? শিয়ালদহ স্টেশনে এখনও ট্রেন চলে। ওখানে ফুল গজাবে কেন?

উফ্‌ফ, তিনি সত্যিই পাগল হয়ে গিয়েছেন। ওঁর এক মামাও মাঝবয়েসে উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন না? সেই রক্তের দোষ নাকি এটা? জীবনের অপরাহ্নে এসে পাগলাগারদ যেতে হবে?

এই গ্রীষ্মের ম্যাজমেজে গরমেও সুশ্রুতবাবুর গায়ে কাঁটা দিল। ভয় করছে, খুব ভয় করছে। এইরকম অবস্থায় মিটিংয়ে বসবেন কী করে? সেলসের ইনফোগ্রাফিক নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিতে গিয়ে এইভাবে যদি উনি ভেসে যান? থিতু হন একটা লালচে বালির উপত্যকায়? তাঁর চাকরি তখন কে বাঁচাবে? বাড়ি গিয়ে মুখ দেখাবেন কেমন করে? মাধুরী তো গলায় দড়ি দেবে। আজ ছুটি নিলে ভালো হত। এইসব ঝামেলায় জড়াতেন না। বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে পড়ে কবিতা লিখতেন। ইদানিং লেখার অভ্যেসটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

পরক্ষণেই ওঁর মনে হল, এখনও তো ছুটি নিতে পারেন। অসুবিধে তো নেই। পকেটেই ওঁর শালা বাবাইয়ের কিনে দেওয়া স্মার্টফোনটা রয়েছে। বার করে এক-দুইবার ট্যাপ করতে হবে। তারপর কানে লাগিয়ে সুপারভাইজারকে বলতে হবে ওঁর শরীর খুব অসুস্থ, আজ আসা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

সুশ্রুতবাবু সেইসব কিচ্ছুটি করলেন না। চুপ করে বসে রইলেন, একদম চুপ করে বসে রইলেন। বাসের ঝাঁকুনিতে চারপাশটা বদলে যাচ্ছিল। ধুলোভরা রাস্তা পালটে গিয়ে বন হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তারপর আবার সেই রাস্তা, গাড়ি, আর ধূসর আকাশ ফেরৎ আসছিল। স্বপ্ন কি আজ শেষ হবে?

হঠাৎ কন্ডাকটর ছেলেটা চিল্লিয়ে উঠল, “কাঁকুড়গাছি, কাঁকুড়গাছি।”

যাহ, উল্টোডাঙা পার হয়ে চলে এসেছে বাস? কিচ্ছু মনে নেই ওঁর, খেয়াল করে দেখেনওনি। বাসে বসে স্বপ্নের ঘোর যেন আরও বেড়ে গিয়েছিল। উনি হন্তদন্ত করে সিট ছেড়ে উঠলেন।

“এই এই, দাঁড়াও। এখানে নামব।”

“তাড়াতাড়ি করুন,” কন্ডাকটর খেঁকিয়ে উঠল। “সিগনাল পড়লে এপাড়ে আর দাঁড়াতে পারব না।”

সুশ্রুতবাবু তাড়াতাড়ি বেরুতে গিয়ে কয়েকজনের পায়ে মাড়িয়ে দিয়ে দিলেন। সহযাত্রী আর কন্ডাকটরের গালাগাল শুনতে শুনতে কোনওরকমে নিচে নামলেন। বাস ধোঁয়া ছেড়ে চলে গেল। সুশ্রুতবাবু হাঁ করে দেখলেন, বাসের রং নীল। স্বপ্নে দেখা সেই হালকা নীল, লোকাল বাসের ক্যাটকেটে নীল নয়। ওঠবার সময় ওঁর চোখে পড়েনি কেন?

বাসটা খুব শীঘ্রই কলকাতার ট্রাফিকে হারিয়ে গেল।

অফিসের কাচের জানালাগুলো কিন্তু ভেঙে পড়েনি। ঠিকই আছে। সিমেন্টের গা বেয়ে লতা পাতা গজিয়ে ওঠেনি। সব ঠিক আছে, সব ঠিক আছে। পাখির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। গাড়ির গর্জন শুধু, আর হর্নের চিৎকার।

সুশ্রুতবাবু ধীরে ধীরে চোখদুটো খুললেন। একটু আগে দেখতে পাওয়া ভাঙাচোরা বিল্ডিংয়ের বদলে একটা নতুন বিল্ডিং দাঁড়িয়ে। লোকজন ঢুকছে পিলপিল করে, মুখ তাদের গোমড়া। এইচ.আর-এর লোকেরা বলেছিল, “সবসময় হাসবেন, সবসময় পজিটিভ চিন্তাভাবনা করবেন। আর দেখা হলেই গুড মর্নিং, গুড ইভিনিং বলা বাধ্যতামূলক।” কেউ সুশ্রুতবাবুকে গুড মর্নিং বলছে না। সক্কলে খুব ব্যস্ত।

কিন্তু তাও উনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। সব কিছু স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। এখন কোনওরকমে মিটিংটা পার করতে পারলে হয়। গেটের মুখে আইডি দেখিয়ে উনি বিল্ডিং-এর ভেতরে ঢুকলেন। এসির হাওয়া মুখে লাগতে আরও একটু ধাতস্থ হলেন। নাহ, ঠিক কাটিয়ে ফেলবেন দিনটা। আজকের মিটিংয়ের প্রেসারের জন্যই হয়তো সকাল থেকে নিজেকে একটু অপ্রকৃতস্থ লাগছিল। ঠিক আছেন, উনি সম্পূর্ণ ঠিক আছেন। সুশ্রুতবাবু লিফটের সামনে দাঁড়ালেন। অল্প ভিড় জমে রয়েছে সেখানে। সবাই একসঙ্গে লোহার খাঁচাটার জন্য অপেক্ষা করছে, উপর তলায় তাদের অনেক কাজ।

লিফট খুলতেই সুশ্রুতবাবু দেখলেন খাঁচার ভেতরে একটা বাঘ শুয়ে রয়েছে। সেটার গায়ের ডোরাকাটা দাগগুলো পালটে পালটে যাচ্ছে, যেন সাদা দুধে কালো তেল। বাঘটার চোখদুটো হালকা সবুজ। সেগুলোতে ঠিক জোনাকির মতো আলো জ্বলছে। সুশ্রুতবাবু পিছিয়ে গেলেন।

“আহ, দাদা, দেখে সরবেন তো,” পেছন থেকে একজন দিদি বলে উঠলেন। “গায়ে হুমড়ি খাচ্ছেন। অসভ্য কোথাকার।”

সুশ্রুতবাবু ততক্ষণে সেখান থেকে পুরোপুরিভাবে সরে পড়েছেন, লিফটের বাঘ আর খিটমিটে অফিস বাবুদের থেকে দূরে চলে যাচ্ছেন। এইগুলোকে আর স্বপ্ন বলবেন কী করে? এগুলো তো পুরোপুরি ভিসুয়াল হ্যালুসিনেশন। ৪৭ বছর বয়সি সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কান্না পাচ্ছিল। বউয়ের কথা কেন শুনলেন না? কেন এলেন অফিসে? সত্যিই তো, এত কীসের প্রয়োজন মিটিং অ্যাটেন্ড করার? এই সকল প্রশ্নের উত্তর ওঁর কাছে নেই। খালি রয়েছে অফিসের কিউবিকলে মুখ গুঁজে থাকার ইচ্ছে। ওইটা করেই সারাজীবন কেটে গিয়েছে। অন্য কিছু করার কথা ভাবলেই কেমন একটা টেনশন হয়।

আজ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। সুশ্রুতবাবু পিঠের ব্যাগটা গুছিয়ে নিয়ে শুরু করলেন ওনার তীর্থযাত্রা।

তিনতলা। ফাইনান্সের মিহিরবাবু সিঁড়ির পাসের জানালাটা খুলে বিড়ি টানছিলেন। সুশ্রুতবাবুকে দেখতে পেয়ে একটু অবাক হলেন।

“কি হল মিস্টার ব্যানার্জি? লিফট কাজ করছে না?”

“না, সেইরকম কিছু না,” সুশ্রুতবাবু অপ্রস্তুত হয়ে মুচকি হাসলেন। “এই একটু এক্সারসাইজ করছি।”

“বাবা, আপনি তো হেলথ কনশাস হয়ে গেলেন,” ভুড়ি নাচিয়ে মিহির মিত্তির হাসলেন। “দেখবেন, গিন্নি বেশ খুশি হবে।”

সুশ্রুতবাবু হেঁ হেঁ করতে করতে আবার সিঁড়ি ভেঙে উঠতে লাগলেন। মিহিরবাবু তিনতলায় দাঁড়িয়ে রইলেন, চোখদুটো তাচ্ছিল্যে ভরা।

সুশ্রুতবাবু জানেন অফিসের সবাই ওঁকে মিইয়ে যাওয়া ফ্রেঞ্চফ্রাই ভাবে। তার কারণটা হল, উনি নাকি একটু বেশিই ভালোমানুষ সাজেন৷ কোনদিন ঘুষ নেননি, কারো সঙ্গে তর্কাতর্কিতে যাননি, ম্যানেজারদের তেল দেননি। যাহ! এইরকম বিহেভিয়ার এখন আর চলে না। সরকারি বেসরকারি কোনও কর্মস্থলেই চলে না। উপরি পয়সা খাওয়া আর বসকে তেল মালিশ করা কলিযুগের ধর্ম। এই তো মিহিরবাবু, ফাইনান্সে কাজ করে লালে লাল হয়ে গিয়েছেন। বাড়িতে দুটো অডি। ছেলের জন্য টেসলা ইম্পোর্ট করে আনবেন, এইসব গল্প হামেশাই করেন। তার উপর সি.এফ.ও এর গায়ে হেলান দিতে দিতে একটা ভালো পজিশন সিকেওর করে ফেলেছেন। এখন ওঁর কাজ হল, তিনতলায় এসে বিড়ি খাওয়া আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিচু কর্মচারীদের চোখ দেখানো। আরামের জীবনে ভুঁড়িটা বেড়ে এভারেস্ট হয়েছে।

সুশ্রুতবাবুর দ্বারা এইসব হয় না। এই কম্পানির হয়ে দশ বছর কাজ করছেন। নিষ্ঠার অভাব নেই। সময়মতো অফিসে এসেছেন৷ উপরিওয়ালাদের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। কিন্তু প্রমোশন হয়েছে মাত্র দুইবার। এখন ওঁর কমবয়সি এক সুপারভাইজারের আন্ডারে কাজ করতে হয়। দুইদিন অন্তর অন্তর ধাতানি খান। সেই দেখে ওঁর সহকর্মীরা মুখ টিপে হাসে। শালা বুড়ো! বেশি যুধিষ্ঠির সাজা না তোর? কুত্তার বাচ্চা…

সুশ্রুতবাবু বোঝেন না বাকিরা ওঁকে দেখতে পারে না কেন। উনি ওদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াননি। নিজের মতো থেকেছেন। ওরা তো সব গাদাগাদা টাকা পায়, আদুরে জীবন কাটায়, অফিসে এসে ফ্রেশার আর ইন্টার্নদের কাঁধে অহেতুক বোঝা চাপায়। ওঁর কি-ই বা আছে ওদের তুলনায়? কাজের চাপ তো ওঁরই বেশি।

সুশ্রুতবাবু এইসব ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলেন। পাঁচতলায় হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলেন। চোখের সামনে এক অদ্ভুত দৃশ্য।

সিঁড়ি জুড়ে সাদা বাঘটা বসে আছে। গ্রীষ্মের রোদ পড়েছে তার গায়ে। কালো ডোরাকাটা দাগগুলো সাদা শরীরে সাঁতার কাটছে। বাঘটার সবুজ চোখদুটো যেন দপদপ করে জ্বলছে। কেমন প্রশান্ত একটা মুখ, শরীরে ঝিম ধরা ভাব। রোদের এই অসহ্য তাপ যেন এর কাছে খুব আরামদায়ক। বাঘটা হাই তুলল। মুখের ভেতর থেকে একটা সোনালি চড়ুই ফুড়ুৎ করে বেরিয়ে এসে জানালা দিয়ে উড়ে পালাল।

সুশ্রুতবাবু বাঘটাকে দেখে ভয় পাননি। ভয় পেয়েছেন নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে। হাতের চেটো ঘামে চটচট করছে, খুব দ্রুত নিশ্বাস-প্রশ্বাস পড়ছে, হাঁটুদুটো কাঁপছে, মাথার ভেতরটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। উনি নিজের বাঁ হাতে ডান হাতের নখ বসালেন, আঁচড়ালেন নিজেকে। বাঘটার কোনও হেলদোল নেই। উনি চোখ বুজে দশ পর্যন্ত গুনলেন। চোখ খুলতে দেখলেন বাঘটা শুয়ে পড়েছে। হাই তুলে নিজের রুপোর বাধানো দাঁতগুলো দেখাচ্ছে।

নাহ, উনি পাগল হয়ে গিয়েছেন। পুরোপুরি উন্মাদ। ক্রেজি। লুনাটিক। ইনসেন একটা আধবুড়ো অফিসবাবু। 

বাঘটা যেন ওঁর মনের কথা শুনেই ফিসফিস করে বলল, “বাড়ি ফিরে যা, রাংতা।”

তা কী করে হয়? একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং আছে। বাঘটা কি একটু সরে যাবে না? তা হলে মিটিংটা অ্যাটেন্ড করে নিতেন। প্রমিস করছেন, এই মিটিং-এর পরেই উনি বাড়ি চলে যাবেন। অফিস থেকে পালানোর কোনও একটা অজুহাত বার করে নেবেন। প্লিজ…

বাঘটার গলা আবার সুশ্রুতবাবুর মনে অনুরণন তুলল। “বাড়ি ফিরে যা, রাংতা।”

সুশ্রুতবাবুর শিরদাঁড়া বেয়ে যেন বিদ্যুতের একটা তরঙ্গ নেমে গেল। মাথাটা আবার বোঁ করে ঘুরে গেল।

সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞান হারালেন।

ডাক্তার বলছে হিটস্ট্রোক। এখন মিস্টার ব্যানার্জি বিপদের বাইরেই রয়েছেন। তবে হসপিটালে আনতে অল্প দেরি হয়ে গেলে রিস্ক অনেকটা বেড়ে যেত। ওঁর প্রাণ বাঁচানোর সব ক্রেডিট মিহিরবাবুর কাঁধে পড়েছে। আপার ম্যানেজমেন্ট খুব খুশি। সিইও নিজে নাকি বলেছেন, এইরকম করিৎকর্মা কর্মচারীর জন্যই কম্পানি এই ইন্ডাস্ট্রির লিডার হয়ে রয়েছে। মিহিরবাবুকে একটা ছোটখাটো গিফট দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। মিহিরবাবু নিজে হেঁ হেঁ করে বলেছেন, “আমি তো খালি নিজের কর্তব্যটুকুই করেছি।” কিন্তু কথায় কথায় নিজের গুণগান গাইতে ওঁর একটুও বাধেনি। 

হসপিটালে একা পড়ে রয়েছেন সুশ্রুতবাবু৷ একা বললে ভুল হবে। রুমের একপাশে মাধুরী বসে আছে, মুখে কান্নার দাগ শুকিয়ে গিয়েছে। শেষরাতের দিকে সুশ্রুতবাবুর যখন ঘুম ভাঙল তখন মাধুরী নিজে ঘুমিয়ে কাদা। রুমটার জানালাগুলো বন্ধ, পর্দা দিয়ে ঢাকা। এসি গোঁ গোঁ করছে একপাশ থেকে, হিমশীতল হাওয়ায় সুশ্রুতবাবুর গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। মাথায় একটা চাপা ব্যথা রয়ে গিয়েছে, নিজেকে দূর্বল লাগছে। তাও উনি বিছানা থেকে নেমে পর্দার সামনে দাঁড়ালেন। পর্দা সরালে কী দেখতে পাবেন উনি? কোন স্বপ্নের রাজ্য? সেখানে আকাশের চাঁদটা পুরোটা রয়েছে না ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে? সেই শহরের রাতে তিনপেয়ে নেকড়েরা বেরোয় না গাড়ির হেডলাইট?

বুক ঢিপঢিপ করতে শুরু করল ওঁর। একবার মনে হল, কিছু দেখে কাজ নেই, এখন ঘুমিয়ে পড়া উচিত। কিন্তু তার পরমুহূর্তেই ভাবলেন— না, আজ আর পালাবেন না, ঘাড় গুঁজে বসে থাকবেন না। তারপর ব্যান্ডেজ উপড়ে ফেলার মতো করেই উনি হুট করে পর্দা ধরে হ্যাঁচকা টান দিলেন। সরসর আওয়াজ করে কাপড়ের টুকরোটা সরে গেল।

বাইরে রাতের কলকাতা তাঁকে দেখে নিওনের হাতছানি দিল। স্কাইস্ক্রেপার সব কালো স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে, কয়েকটার বুকে বিন্দু বিন্দু আলো জ্বলছে। রাস্তায় গাড়ি আছে এখনও, হর্নের আওয়াজ ভেসে আসছে। সুশ্রুতবাবু চুপসে গেলেন। এটাই তো তাঁর চেনা মহানগরী। এখানে সূর্যমুখীর বন নেই। হরিণের শিকার করতে বাঘ এখানে আসে না। ঘাস পাতায় ঢেকে যায়নি এই কংক্রিটের জঙ্গল৷ এই কলকাতায় তো তিনি চেয়েছিলেন, তাই না?

সুশ্রুতবাবু নিজের বেডে এসে শুয়ে পড়লেন, চোখে তার জল।

উপসংহার

রাংতার ঘুম ভাঙল খুব ভোরে। তখনও ঘোড়ার দল ঘাস খেতে আসেনি। মেয়েটা অনেকক্ষণ ফাঁকা বাসের মধ্যে ঝিম মেরে বসে রইল। ওর মনে হচ্ছিল পৃথিবী আবার জেগে উঠেছে। শহরের রাস্তা মানুষের কোলাহলে ভরে গিয়েছে। বিল্ডিংগুলোর কাচ সোনার মতো রোদ্দুরে চিকচিক করছে। হাতছানি দিয়ে রাংতাকে ডাকছে।

রাংতা বাইরের দিকে তাকাল। অন্ধকার অল্প অল্প করে সরে যাচ্ছে। আবছা আলোয় মাঠটাকে ধূসর মরুভুমি মনে হচ্ছে। কিন্তু রাংতার মত কোনও মানুষকে দেখা তো যাচ্ছে না। সবই কি তাহলে স্বপ্ন ছিল? রাংতা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল৷ বাসে জমিয়ে রাখা খাবার শেষ হতে চলেছে।

আজ শিকার করতে হবে।

Tags: কল্পবিজ্ঞান গল্প, তৃণময় দাস, ষষ্ঠ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা

One thought on “সুশ্রুত

  • October 18, 2021 at 10:55 pm
    Permalink

    দুরন্ত টুইস্ট। খুব ভালো লেগেছে।

    Reply

Leave a Reply





Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!